স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে গ্রামীণফোন এর বিজ্ঞাপনচিত্র এটি। ভয়েসওভারটি আমার। আমার জন্য এটি দারুন অভিজ্ঞতা। পরিচালক: কিসলু ভাই, জিংগেল: হাবিব, এজেন্সি: বিটপি।
সামহোয়্যারইনব্লগ এ প্রতিক্রিয়াশীলদের দেশবিরোধী প্রচারণার প্রতিবাদে...
আমরা কঠিন সময় পার করছি তা যে ক্ষেত্রেই বলুন না কেন। রাজনীতি স্বীয় দোষে নির্বাসিত, জরুরী আইনের কারণে আমরা অধিকার লঙ্ঘিত হলেও প্রতিবাদ করতে পারিনা। তাই সামাজিক মতবিনিময়ের প্লাটফর্ম হিসেবে সামহোয়্যারইনব্লগ এর মত টুলস খানিকটা হলেও আমাদের উত্তেজনার উপশম করছে সন্দেহ নেই। যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি ওঠে তখন নিয়মিত এই ব্লগ ভিজিট করেছি আপনারা কে কি ভাবছেন তা জানতে। মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে আমি জন্মেছি। আমার পরিবারের কেউ যুদ্ধে অংশগ্রহণও করেনি। তবুও সেই চেতনাকে ধারণ করি গভীরভাবে। তাই রাজাকারদের সৃষ্ট ছানা রাজাকারদের হাত পা ছোঁড়াছুড়ি দেখলে আমারও গাত্রদাহ হয় বৈকি। তবুও অসহনশীল হতে চাইনা। মুন্নাভাই ছবির দ্বিতীয় পর্ব যারা দেখেছেন তারা জানেন গান্ধীজির দর্শন মেনে চললে উগ্র না হয়েও প্রতিবাদ করা যায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া-ভারত টেস্ট ম্যাচে ব্র্যাড হগ দুজন ভারতীয় খেলোয়ারকে জারজ বলে গালি দেয়। পাল্টাপাল্টি অস্ট্রেলিয়ানদের মত হরভজনও সাইমন্ডসকে বাঁদর বলেছেন। ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেক অন্যায় করার কোনো মানেই হয় না। তাই বলি- সহনশীল হোন। যে নির্বোধ তাকে যে গালি দিলেও লাভ নেই।
এই পোস্টের ছবিটি গত ১৬ই ডিসেম্বরে সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধে তোলা।
প্রিয় মানুষ টি কাছে নেই । তার মুখোমুখি হবারও কোনো উপায় নেই । উপহারের জন্য কেনা বইও পাঠাতে পারছিলাম না। শেষে 266 পৃষ্ঠার পুরো উপন্যাস তাকে পড়ে শোনালাম মোবাইল ফোনে। আনিসুল হকের উপন্যাস "মা"। কবে শুরু করেছিলাম খেয়াল নেই তবে কাকতালীয়ভাবে শেষ হয়েছে 26 মার্চ সকালে। যারা পড়েছেন তারা জানেন একাত্তরে ঢাকার আরবান গেরিলাদের অনেক শ্বাসরুদ্ধকর অপারেশনের বিবরণ এ উপন্যাসটিতে রয়েছে। পড়ছিলাম আর রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে একজন মানুষের জীবন। তিনি শহীদ আজাদের মা যাকে কেন্দ্র করেই উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত। এমন মা খুব কমই আছেন যাদের অবদান অসামান্য। উপন্যাসটি পড়বার মাঝেই একদিন জুরাইন গোরস্থানেগিয়েছিলাম মার কবর খুঁজতে। একবুক হাহাকার নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানে। এ এমন অভিজ্ঞতা যা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই।
এই ছবিটি ঠিক কবে তুলেছিলাম তা এমুহুর্তে মনে করতে পারছি না। রাজশাহীতে থাকাকালীন আমরা ক'জন মিলে বার্ণিক নামে একটা ডিজিটাল ম্যাগাজিন বের করেছিলাম। বার্ণিকের জন্য লিখেছিলাম ভালোবাসা নিয়ে । লেখার সাথে ব্যবহারের জন্য ছবি তুলতে গিয়েছিলাম পার্কে। যাদের ছবি তুলবো তারা তো লাপাত্তা। অপেক্ষা করতে করতে একসময় আকাশ ঘনিয়ে এলো। পার্কে ছিল বেশ কটি সাদা ময়ূর। মেঘলা আকাশ দেখে ডানা ছড়ালো তারা। আমার ক্যামেরা তখন সময়কে বেঁধে ফেলতে ব্যস্ত।
প্রায় দশ বছর হল বাংলাদেশ বেতারে উপস্থাপনার কাজ করছি। সপ্তাহের অবসর সময়ের খানিকটা ব্যয় করি সেখানেই। অনেক ভালোলাগা, অনেক সুখস্মৃতি তৈরি হয়েছে এসময়ে। খারাপ লাগার মত বিষয়ও কম নয়। সুযোগ পাবার আগে বেতার সমন্ধে একেবারেই ভিন্ন ধারণা ছিল।
ছোটবেলায় বাবাকে দেখতাম অফিস যাবার আগে নিয়মিত রেডিও শুনতে। আমার মাও শুনতেন। বোধহয় সেকারণেই সারাক্ষণ গুনগুন করে সুর ভাঁজতেন। গানের প্রতি ভালোলাগাটা তৈরি হয়েছে তখনই। সেসময় বাংলা ছবির কালজয়ী গানগুলোর জয়জয়কার।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি যখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি তখন সুমন ভাইয়ের পরামর্শে বেতারে অডিশন দিই। অডিশনের দিন ভাবতেও পারিনি টিকে যাবো। ১৩০ জনের মধ্যে সৌভাগ্যবান ৩ জনের একজন আমি। আমিই সবার চেয়ে বয়সে ছোট। মনে পড়ে ৫৫ বছর বয়েসী এক ভদ্রমহিলাও ছিলেন সে রেসে। আমি তো ভীষণ খুশি সুযোগ পেয়ে। ছোটবোনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেলাম জীবনানন্দের কবিতা সমগ্র। বন্ধুদের তো বলেই ফেললাম-এবার আর হাতখরচার অভাব হবে না। বাস্তবতা হল প্রতি অধিবেশনে ডিওটির জন্য সম্মানী ৭৫ টাকা। আমি যারপর নাই হতাশ। আস্তে আস্তে জানলাম বেশিরভাগ মানুষই সেখানে যান তাদের ভালোবাসার কারণে। নাহলে সরকারের এত অবহেলার পরেও রেডিও টিকে থাকত কি না সন্দেহ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই আবৃত্তি সংগঠন স্বনন এর কর্মী ছিলাম। সে সুবাদে শুদ্ধ উচ্চারণের চর্চাও তখন থেকেই। রেডিওতে সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেকখানি। অর্থ উপার্জনের জায়গা সেটি নয় মোটেও। তারপরও অনেক কলুষ প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে আমাকে। অবাক হয়েছি শুধু সুযোগ পাবার জন্যে শরীরী ভালোবাসা বিনিময় করতে দেখে।
সরকারী প্রচার মাধ্যম হওয়াতে আমরা পারিনা স্বাধীনভাবে কাজ করতে। কিছু বেঁধে দেয়া নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। সীমিত স্বাধীনতার মধ্যে থেকেও আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করি বৈচিত্র রক্ষা করতে। তবে প্রমিত উচ্চারণের ক্ষেত্রে রেডিও সবসময় উৎসাহিত করে এবং সেটা মেনে চলা হয়। এখন ঢাকায় যে ক’টি এফ এম স্টেশন চালু সেসব জায়গায় ঠিক এর উল্টোটা ঘটতে দেখি। ওদের অনুষ্ঠানে গতি আছে, বিধিনিষেধের অতটা বালাই নেই। তাই বলে বাংলা আর ইংরেজির মিশেলে ভাষার অপপ্রয়োগ মেনে নেয়া যায় না। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। প্রশ্ন জাগে প্রতি বছর ৮ ফাল্গুন ঘটা করে প্রভাত ফেরিতে যাওয়া তবে কেন?
ছুটির ঘণ্টা'র ধ্বণি আমাকে আন্দোলিত করে আজো। ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে বগলে বই চেপে ধুলো উড়িয়ে স্কুলের মাঠ পেরিয়ে এক দৌড়ে বাড়ি পৌঁছুতাম। বাড়ি পৌঁছেই বই-খাতা রেখে আবার ছুটতাম পুকুর ঘাটে মাছ ধরতে। একটা সময়ে প্রতিদিনের রুটিন ছিল এটি। তিনটে পুকুর পাশাপাশি। চারপাশ জুড়ে অনেক গাছ। ওর মধ্যে একটা আমগাছ ছিল অন্যগাছেদের তুলনায় বেশ বড়। কাণ্ড থেকে মোটা একটা শেকড় বেড়িয়ে জলের বেশ খানিকটা উপর ভেসে থাকতো। আমার পছন্দের জায়গা ছিল সেটা। ওখানে বসেই মাছ ধরতাম। ময়দা দিয়ে বানানো টোপ ক্ষুদে বরশির মাথায় লাগিয়ে নিবিষ্টমনে চেয়ে থাকতাম কখন মাছেরা ধরা দেয়। ছোট একটা এলুমিনিয়ামের জগ ছিল মাছ রাখবার জন্য। ওটা ভরে না ওঠা পর্যন্ত আমার মাছ শিকারও শেষ হত না। সবই ছোট জাতের তবে বেশি ধরা পড়তো পুঁটি মাছ। সেই পুঁটিমাছ ভাজার স্বাদ এখন হাহাকারকেই বাড়িয়ে দেয় শুধু। পুকুরে বিশাল সাইজের তিনটে মাছ ছিল। ওরা একসাথে সাঁতার কাটতো। মাঝে মাঝে জেলে ডেকে জাল টেনে মাছগুলো তোলা হত। একেকটা মাছ দৈর্ঘে আমার সমান। অন্যসব দিনের মতই একদিন মাছ ধরতে বসেছি, সেদিন আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না সেখানে। যদিও আমার বরশিতে কখনোই বড় কোনো মাছ ধরা দেয় না সেদিন ওই বিশাল তিনটে মাছের একটা বিঁধে গেল। বরশির সুতোই টান। আমি শক্ত হাতে ছিপ ধরে শুয়ে পড়েছি পুকুর পাড়ে, মাছটি তখন ছুটতে চাইছে গভীর জলের দিকে। মাছের শক্তিও কম নয়, আমাকে টেনে নামিয়েছে জলের কিনারে। শেষে সুতো ছিঁড়ে পালিয়ে গেল মাছ। আমিও বাঁচলাম।
অনেক বছর পর আবার যখন ফিরেছি আমার বিশ্বাসই হতে চায়নি ওটা সেই একই জায়গা। আমার শৈশবের চোখে সেই পুকুর, পুকুর ঘাট বিশালায়তন ব্যপ্ত একেকটা জগত। বড় আমি’র কাছে সেটি নিতান্তই ছোটো। আমার খটকা লাগলো-ভুল দেখিনি তো? পরে বুঝেছি বড় হওয়াতে চোখের দৃষ্টিকোণও বেড়েছে। একারণেই সব ছোটো ছোটো লাগছে। তবুও শৈশবের চোখ, সেই চোখে দেখা জগত আমার কাছে স্বপ্নের মতই সুন্দর।
পাঠক, আমার মত আপনার মনেও কি একই প্রশ্ন জেগেছে কখনো?
Friends,
I've got a very nice place to live. On the top of the building with surrounded green - life is beauty full there. There's a sitting arrangement on the roof. I enjoy the great view specially on moonlight nights. You are requested to pay a visit at my door.
Location: House 4/26 (5th floor), Section 12/C, Mirpur 12, Dhaka
PLease make a call to +8801712504279.
Yours
K